প্রকাশিত: ২৬/০৬/২০১৯ ৭:৪০ এএম

: নিজের মাকে রাতের আঁধারে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুই পাষণ্ড। ১৫ দিন ধরে রাস্তায় আশ্রয়হীন অবস্থায় খেয়ে-না খেয়ে পড়ে ছিলেন বৃদ্ধা খোদেজা (৭৫)। অবশেষে ঐ বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করলেন স্থানীয় ওসি। নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে থানার বিশ্বনন্দী ইউপির চৈতনকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধা মা খোদেজা মৃত মিল্লাত আলীর স্ত্রী। ১৫ দিন আগে নিজের ওরসজাত দুই সন্তান হাছেন আলী ও জামান তাকে রাতের আঁধারে রাস্তায় ফেলে যায়।

খবর পেয়ে আড়্হাাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৫ জুন) তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় দুই ছেলেকে পুলিশ আটক করে। পরে ওসির উদ্যোগে দুই সন্তানের কাছ থেকে বৃদ্ধার নামে ২ শতাংশ জমি লিখিয়ে নেন। এতে তার মাথা গুঁজার একটি ঠাঁই হয়েছে।

বৃদ্ধা খোদেজা জানান, ১৯৭১ সালে তার স্বামী বিল্লাত আলী দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান। পরে পৈত্রিক সূত্রে সন্তানেরা জমির মালিক হন। এক পর্যায়ে বৃদ্ধাও তার বাবার বাড়ির জমিসহ নিজের স্বামীর কাছ থেকে প্রাপ্য ২০ শতাংশ জমি চার বছর আগে সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছিলেন।

এখন ভাত কাপড়তো দূরের কথা। সন্তানদের কাছে মাথা গুঁজার ঠাঁই ছিল না তার। এমনকি ছেলেদের বউরাও তাকে বিভিন্ন সময় মারধরও করতো।

১৫ দিন আগে ছেলেরা তাকে রাতের আধারে রাস্তায় ফেলে যায়। তার থাকার ঘরেও তারা তালা ঝুলিয়ে দেয়। চৈতনকান্দা এলাকায় একটি রাস্তায় সে পড়ে ছিল। ওসি নজরুল ইসলাম খবর পেয়ে নিজের উদ্যোগে তাকে উদ্ধার করেন।

এ সময় বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি ওসি সাহেবের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করব। তিনি যেন এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে পারেন। তার কারণে আমি থাকার একটু জায়গা পাইলাম।’

এ ব্যাপারে ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি বৃদ্ধার থাকার একটু ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছি।’ ওসি’র এমন মহতি উদ্যোগে স্থানীয়রাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

টিউবওয়েল নাকি ফটোসেশন? কুতুপালংয়ে ‘হেফজু সিন্ডিকেট’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাবের বড় ছেলে হেফজু রহমান ও দেলোয়ার-এর বিরুদ্ধে ...

অচল কক্সবাজার সৈকতের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ঝুঁকিতে পর্যটকদের জরুরি সেবা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের ...
Single Page Footer